মেট্রোরেল রচনা । Essay on Metrorail । প্রতিবেদন রচনা

মেট্রোরেল রচনা: মেট্রোরেল দ্রুতগতিসম্পন্ন পরিবহন ব্যবস্থা। যা বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার জন্য যা খুবই প্রয়োজনীয়।  এজন্য বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যানজট নিরসনে বাংলাদেশ সরকারের একটি অভূতপূর্ণ সিদ্ধান্ত হচ্ছে ঢাকা মেট্রোরেল।

মেট্রোরেল রচনা

মেট্রোরেল রচনা । Essay on Metrorail
মেট্রোরেল রচনা । Essay on Metrorail

ভূমিকা:

বাংলাদেশের মেগা প্রকল্প গুলোর মধ্যে বর্তমানে চলমান রয়েছে মেট্রোরেল। যার বাস্তবায়ন বদলে দিবে মেগা সিটি ঢাকার চেহারা। রাজধানী ঢাকাকে যানজট মুক্ত করতে এই মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করছে জাইকা নামক সংস্থা। এবং বাকি ২৫ শতাংশ বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন। এই রেল ব্যবস্থাটি শুধু মাত্র রাজধানী ঢাকার জন্যে নির্মাণ করা হচ্ছে। এর প্রথম ধাপ নির্মাণ হচ্ছে উত্তরা-মতিঝিল রুটে।

মেট্রোরেল পরিচিতি:

ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পকে বলা হয় ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট। সংক্ষেপে একে MRT বলা হয়। এই প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয় ২০১৩ সালে। যার উদ্দেশ্য ছিলো রাজধানীর অতিমাত্রার যানজট কমিয়ে আনা। এবং এর উদ্দেশ্য কৌশলগত এই পরিবহন পরিকল্পনা গৃহিত হয়। এটি দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্প। প্রথমে এর লাইন সংখ্যা ধরা হয় ৩টি।

কিন্তু ২০১৬ সালে প্রণীত সংশোধিয় কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা অনুসারে এর লাইনের সংখ্যা ৫টি করা হয়। মোট ২০.১ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬টি লাইন কে নির্বাচন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২৬ জুন উদ্বোধন করা হয় ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণ কাজ।

ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের একটি রেল হলো এম আর টি লাইন ৬। এটি উত্তর-মতিঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংক অব্দি বিদ্যমান। এই ২০.১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে এখন থেকে ঢাকা বাসীর প্রয়োজন হবে মাত্র ৩৫ মিনিট। এই রুটের ১৫টি স্টেশন থাকবে। এই রেলের পুরোটি পথ উড়ালসড়ক, এটি মাটি হতে প্রায় ১৩ মিটার উপরে।

যেহেতু এটি যানজট নিরসনে নির্মিত তাই উড়ালসড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়ক নির্মাণের পরই শুরু হয়েছিল রেল পথের কাজ। ছাড়াও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শব্দ নিরোধের জন্যে শব্দনিরোধক রেয়াল থাকবে এর দু’পাশে। ২০১৯ এর জুলাইয়ের মধ্যে এর উত্তরা হতে আগারগাঁও অব্দি ১২ কিলোমিটার সড়ক এর মধ্যে ৪ কিলোমিটার উড়ালসড়ক নির্মাণ করা গিয়েছে। এছাড়া আগারগাঁও-মতিঝিল ৮.১২ কিলোমিটার পথে পাইলিমগ ও পিলারের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে করা হচ্ছিলো।

মেট্রোরেল রচনা । Essay on Metrorail
মেট্রোরেল রচনা । Essay on Metrorail

গুরুত্ব:

মসজিদের শহর ও রিকশার শহর থেকে যে কবে আমাদের রাজধানী যানজটের শহর হয়ে দাঁড়িয়েছদ তা আমরা ভুলেই গিয়েছে। বাংলাদেশের রাজধানী মুখি বিশাল জনসংখ্যার ফলে দিন রাত যানজট বিদ্যমান এখানে। ১৫ মিনিটের রাস্তায় লাগে ১ ঘন্টা। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে ঢাকার জনসাধারণ।

তাই এই মেট্রোরেল তাদের এই দুঃসহ যন্ত্রণা হতে রক্ষা করবে। মুক্তি দিবে যানজট থেকে। এছাড়া প্রতি বছর লক্ষকোটি টাকা যানজটের ফলে অপচয় হয় তা রোধ হবে। গতিশীল হবে অর্থনীতি। তাই মেট্রোরেলের গুরুত্ব অপরিসীম।

সুযোগ সুবিধা সমূহ:

মেট্রোরেল এর অন্যতম সুবিধা এতে যানজট থাকবে না। উড়াল সড়কের মাধ্যমে চলাচল হবে রেল। পর্যাপ্ত পরিমাণ ট্রেন থাকবে এবং স্টেশন থাকবে যার ফলে যাতায়াতে খরচ হবে স্বল্প সময়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা সহ প্রতি ট্রেনে থাকবে মোট ৬টি বগি। মোট ১৬ টি স্টেশন থাকবে যার মাধ্যমে যাত্রী আনা নেয়াতে সুবিধা হবে।

এই স্টেশন গুলো হলো-উত্তরা দক্ষিণ,উত্তরা সেন্টার,পল্লবী,আইএমটি,মিরপুর-১০,ফার্মগেট,তালতলা,কাজীপাড়া,আগারগাঁও, বিজয় সরণি,সোনারগাঁও, জাতীয় স্টেডিয়াম,জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর,বাংলাদেশ ব্যাংক।

উত্তরা হতে মতিঝিল রুটে চলবে ১৪ টি ট্রেন। প্রতি ট্রেনে ৯৪২ জন করে ও ৭৫৪ জন করে দাঁড়িয়ে যাত্রী যাতায়াতের সুবিধা রয়েছে। এই ট্রেন গুলো প্রতি ৪০ মিনিট পর পর ছাড়বে। এগুলোদ গতি হবে ঘন্টার ৩২ কিলোমিটার। শুরু থেকে শেষ গন্তব্যে যেতে খরচ হবে মাত্র ৩৫ মিনিট। প্রতি স্টেশনে ৪০ সেকেন্ড করে ট্রেন থামবে। এই ট্রেনে স্বয়ংক্রিয় কার্ডের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করা যাবে।

মেট্রোরেল রচনা । Essay on Metrorail
মেট্রোরেল রচনা । Essay on Metrorail

বাজেট ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

পুরো ২০.১ কিলোমিটার মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। যার মধ্যে ৭৫% জাইকা দিবে বাকিটুকু বাংলাদেশ সরকার।

এটি নির্মাণের ফলে রাজধানীর ব্যবসা বাণিজ্য গতিশীল হবে। কেনোনা বর্তমানে যানজটের কারণে সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না। তাই মেট্রোরেল হলে তা সহজ হবে।

উপসংহার:

পরিশেষে বলা যায় এই প্রকল্পটিকে দেশের মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছে। এটির সফল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করলে রাজধানীবাসী হাফ ছেড়ে বাঁচবে। অনেক অর্থনৈতিক ক্ষতি থেকেও বেঁচে যাবে দেশ।

আরও পড়ুনঃ

 

“মেট্রোরেল রচনা । Essay on Metrorail । প্রতিবেদন রচনা”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন