বাচ্যের প্রকারভেদ | বাক্যতত্ত্ব | ভাষা ও শিক্ষা

বাচ্যের প্রকারভেদ | বাক্যতত্ত্ব | ভাষা ও শিক্ষা , বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বলে বাচ্য। যেমন সুমি এদের দেখতে পাবে না। যায়, পাবে না” (যৌগিক) বাক্যটিতে মূল উপাদান তিনটি—কর্তা, কর্ম ও ক্রিয়া (সমাপিকা)। পরস্পরের সম্পর্ক অনুযায়ী এই তিনটি উপাদান বক্তব্যের সংগতি রক্ষা করে বাক্য-কাঠামো গড়েছে। ‘সুমি’ কর্তা, ‘এদের’ কর্ম, ‘দেখতে পাবে না সমাপিকা ক্রিয়া।

বাচ্যের প্রকারভেদ | বাক্যতত্ত্ব | ভাষা ও শিক্ষা

বাক্যের মধ্যে যেমন বক্তব্য বিষয় আছে, তেমনি আছে একটি বিশেষ বাচনভঙ্গি। ব্যক্তিভেদে এই বাচনভঙ্গির পরিবর্তন ঘটতে পারে। যেমন— ক. সুমি এদের দেখতে পাবে না। খ. সুমি কর্তৃক এরা দৃষ্ট হবে না। ওপরের দুটো বাক্যের বক্তব্য একই।

 

বাচ্যের প্রকারভেদ | বাক্যতত্ত্ব | ভাষা ও শিক্ষা

 

কিন্তু বলার ভঙ্গি পৃথক। সেজন্য বাক্যের কাঠামোগত রূপও পৃথক। প্রথম বাক্যে ‘সুমি’ কর্তার সঙ্গে ‘দেখতে পাবে না’ ক্রিয়ার সরাসরি সম্পর্ক আছে। ‘এদের’ কর্ম। দ্বিতীয় বাক্যে ‘কর্তৃক’ অনুসর্গযোগে ‘সুমি’ হয়েছে অনুক্ত কর্তা। ‘এরা’ কর্ম হয়েও কর্তার মতো। সেজন্য ‘দৃষ্ট হবে না’ ক্রিয়ার সঙ্গে ‘এদের’-এর সরাসরি সম্পর্ক হয়েছে। আবার বাক্য কর্মহীন হতে পারে।

 

বাচ্যের প্রকারভেদ | বাক্যতত্ত্ব | ভাষা ও শিক্ষা

 

সে-ক্ষেত্রেও ব্যক্তিভেদে বাচনভঙ্গির পরিবর্তন সম্ভব। যেমন- ক. সুমিতা নাচল । খ. সুমিতার নাচা হল । চল’ ক্রিয়া কর্তার অনুসারী। এ দুটি বাক্যের বক্তব্যও এক। কিন্তু বাচনভঙ্গি পৃথক। প্রথম বাক্যে ‘সুমিতা’ কর্তা, ‘নাচল’ কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যে ‘সুমিতা’ ‘সুমিতার’ হওয়ায় কর্তার প্রাধান্য লোপ পেয়েছে এবং ‘নাচা হল’ ক্রিয়া হয়েছে প্রধান। সুতরাং বাচনভঙ্গির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাক্য-কাঠামোর যেমন কিছু পরিবর্তন ঘটে, তেমনি কখনও কর্তা, 18 কখনও কর্ম, কখনও ক্রিয়া প্রাধান্য পায়। তবে সব ক্ষেত্রেই ক্রিয়ার রূপের পরিবর্তন ঘটে। বাক্যের বাচনভঙ্গি অনুযায়ী কর্তা, কর্ম বা ক্রিয়াপদের প্রাধান্য নির্দেশ করে ক্রিয়াপদের রূপের যে পরিবর্তন তাকে বলা হয় বাচ্য।

 

বাচ্যের প্রকারভেদ | বাক্যতত্ত্ব | ভাষা ও শিক্ষা

 

আরও দেখুন :

মন্তব্য করুন