বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ রচনা [ Bangabandhu o Bangladesh rocona ]

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ রচনা [ Bangabandhu o Bangladesh rocona ]

শেখ মুজিবুর রহমান , সংক্ষিপ্তাকারে শেখ মুজিব বা বঙ্গবন্ধু, ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

তিনি ভারত বিভাজন আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কেন্দ্রীয়ভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেন।

 

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ রচনা [ Bangabandhu o Bangladesh rocona ]
বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ রচনা [ Bangabandhu o Bangladesh rocona ]

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ রচনা [ Bangabandhu o Bangladesh rocona ]

ভূমিকাঃ

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি :

ও বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পিছনে তার অবদান ও ত্যাগ ভুলবার নয়।

আমদের উচিত তার জীবনী সম্পর্কে গভীর ভাবে জানা । আজ আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে রচনা আকারে আলোকপাত করবো।
বাংলা রচনা; গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাংলা রচনা সমগ্র

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৬ মার্চ পূর্বে ফরিদপুর ও বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান এবং; মাতার নাম সায়েরা খাতুন। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে; তিনি ছিলেন তৃতীয় ।

শিক্ষাঃ

১৯২৭ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বয়স ৭ বছর তখন তিনি স্থানীয় গিমাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এরপর ১৯২৯ সালে ৯ বছর বয়সে তাকে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে ভর্তি করানো হয়। পরে তিনি মিশনারি স্কুলে ভর্তি হন। কিন্তু ১৯৩৪ সালে যখন তিনি বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হন, তখন তার প্রায় ৪ বছর পড়াশোনা ছিল।

তারপর ১৯৩৬ সালে তিনি আবার মিশনারি স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকে তিনি ১৯৪২ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তির সুযোগ পান এবং বেকার হোস্টেলে থাকতে শুরু করেন। তিনি ১৯৪৪ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৪৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।

১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনের সমর্থন ও নেতৃত্বের মধ্যে প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এবং আইন অধ্যয়নরত অবস্থায় তাকে তার ছাত্রজীবনের ইতি টানতে হয়।

 

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ রচনা [ Bangabandhu o Bangladesh rocona ]

 

রাজনীতি-পূর্ব জীবন:

বিশ্ব রাজনীতির অবিসংবাদিত নেতা এবং বাংলা ও বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতি শুরুর আগে থেকেই গ্রামের দরিদ্র মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখে নিজের মধ্যে এক ধরনের তারণা অনুভব করতেন। তার মাথায় ছিল এই দরিদ্র মানুষের জন্য কিছূ একটা করতে হবে।

ছোট বেলা থেকেই ক্ষুধার্তদের মুখে নিজের খাবার তুলে দেওয়ার ঘটনা দু-একটি নয়; বরং অনেক। তাছাড়া শীত এলেই অনেক অসহায় শীতার্ত মানুষকে নিজের চাদর দান করে দিয়েছিলেন। তাছাড়া তখন থেকেই বঙ্গবন্ধু ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেন। অন্যায় যতই শক্তিশালীই হোক না কেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিশোধ নিতে কখনো দ্বিধা করতেন না।

রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ও বিশেষ অবদানঃ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ছাত্রাবস্থা থেকেই। আর তার রাজনৈতিক জীবনে বিশেষ অবদান রয়েছে।

ভাষা আন্দোলন:

প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আইনসভায় ঘোষণা করেন যে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে গ্রহণ করবে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অবিলম্বে এই ঘোষণার প্রতিবাদ করেন। ২ মার্চ ফজলুল হক মুসলিম হলে ভাষা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হলে বঙ্গবন্ধুর পরামর্শে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

১১ মার্চ হরতাল চলাকালে সচিবালয়ের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন আবার ঘোষণা করেন, ‘উর্দু হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিবস হিসেবে পালন এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আহ্বান জানান। এর দাবিতে ১৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু কারাগারে অনশন শুরু করেন।

২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৪৪ ধারা লঙ্ঘন করে ছাত্র-জনতা ঢাকার রাজপথে মিছিল করলে পুলিশ মিছিলে গুলি চালায়। এতে সালাম, জব্বার, রফিক, বরকত, সফিউরসহ বহু মানুষ শহীদ হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কারাগারে বসে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং ১৩ দিন অনশন চালিয়ে যান। তিনি ২৬ ফেব্রুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

 

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ রচনা [ Bangabandhu o Bangladesh rocona ]

 

আগরতলা মামলার আসামী:

১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মোট ৩৫ জন সেনা ও সিএসপি অফিসারের বিরুদ্ধে মামলা করে। এরপর ১৯ জুন কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঢাকা সেনানিবাসে আগরতলা মামলার বিচার শুরু হয়।

গণঅভ্যুত্থান:

৬ দফাসহ ১১টি দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ৫ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। আগরতলা মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে পরিষদ দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলন শুরু করে।

একপর্যায়ে এই আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ২২ ফেব্রুয়ারি সরকার আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য আসামিদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত এক সংবর্ধনায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

বাংলাদেশের নামকরণ:

১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের এক আলোচনা সভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন বাংলাদেশ।

নির্বাচনী বিজয়:

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পূর্ববঙ্গ জাতীয় পরিষদের ১৬২টি আসন ভিত্তিক আসনের মধ্যে ১৬০টিতে জয়লাভ করে।

তাছাড়া, সংরক্ষিত ৬টি মহিলা আসন সহ আওয়ামী লীগের মোট আসন সংখ্যা ১৬৭টি। আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি আসন ভিত্তিক আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে জয়লাভ করেছে। এছাড়া ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ আওয়ামী লীগের মোট আসন সংখ্যা ২৯৮টি

আরও পড়ুন:

“বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ রচনা [ Bangabandhu o Bangladesh rocona ]”-এ 7-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন