কারকের শ্রেণিবিভাগ | কারক ও বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা

কারকের শ্রেণিবিভাগ | কারক ও বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা , “বাঙ্গালা ব্যাকরণে কারক প্রকরণে নানা গণ্ডগোল আছে। সাধারণত ইংরেজি ও সংস্কৃত ব্যাকরণের রীতি একত্র মিশাইয়া যে কারক-প্রকরণ রচিত হয়, তাহা অযুক্ত ও অসঙ্গত। বাঙ্গালা ভাষার প্রকৃতি ও প্রয়োগরীতি নির্ধারণ করিয়া কারক-প্রকরণের সংস্কার আবশ্যক।” – রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী। ১. “আমাদের নবব্যাকরণবিদেরা বাক্য সম্পর্কে উৎসাহী ছিলেন, তবে ওই উৎসাহ বাস্তব বিশ্লেষণে পরিগ্রহ করে খুব সামানদের তারা বদেরকে কানাবিধ প্রশ্ন উত্থাপন করেন। যে রামেন্দ্রসুন্দর (১৩১২, এবার রীপ মানদণ্ডে রা রক শনাক্তির প্রস্তাব দেন।

কারকের শ্রেণিবিভাগ | কারক ও বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা

রামেন্দ্রসুন্দর রাখতে চান তিনটি কারক— কর্তা, কর্ম ও অন্য একটি কারক; যতীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায় (১৩৩১) কর্তা ও কর্ম ছাড়া অন্য কোনো কারক স্বীকার করেন না। সবাই অবশ্য এতোটা উগ্রতা দেখান নি; সংস্কৃত ব্যাকরণের একটি কারক ছাড়া অন্য পাঁচটিকে প্রীতির চোখে অনেকেই দেখেছেন। অনেকেই আক্রমণের লক্ষ করে তুলেছিলেন ‘সম্প্রদান কারক’টিকে। রবীন্দ্রনাথ (১৩০৮): প্রচণ্ড পরিহাসে বাতিল ক’রে দিয়েছিলেন সম্প্রদানকে : ‘তাহাকে দিলাম’ যদি সম্প্রদান কারকের কোঠায় পড়ে, তবে ‘তাহাকে মারিলাম’ সন্তাড়ন-কারক’ ‘ছেলেকে কোলে লইলাম’ সংলালন-কারক; ‘সন্দেশ খাইলাম’ সম্ভোজন-কারক, ‘মাথা নাড়িলাম’ সঞ্চালন কারক এবং বাংলা কর্ম- কারকের গর্ভ হইতে এমন সহস্র সংজ্ঞার সৃষ্টি হইতে পারে।

 

কারকের শ্রেণিবিভাগ | কারক ও বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা

 

রামেন্দ্রসুন্দর, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, এবং সবার আগে রামমোহন রায় ত্যাগ করেছিলেন এটি, কিন্তু প্রথাগত বাংলা ব্যাকরণে এটি আজো টিকে আছে। কেউ কেউ এটির পক্ষে যুক্তিও পেশ করেছেন।” — ড. হুমায়ুন আজাদ। ২ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ যে উদাহরণের মাধ্যমে কারকের সম্পর্ক দেখিয়েছেন তা হল — “চারু, তুমি তোমার বাগান থেকে এক শ ভাল আম একটি লোক দিয়ে তকীকে বর্ধমানে পাঠিয়ে দেবে?’ এ বাক্যে ১. ‘দেবে’ ক্রিয়াটি কে করবে? ‘তুমি’; ২. কী দেবে? ‘আম’; ৩. কাকে দিয়ে দেবে? ‘লোক দিয়ে’ ; ৪. কাকে পাঠিয়ে দেবে?

 

কারকের শ্রেণিবিভাগ | কারক ও বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা

 

“তকীকে’; ৫. কোথা থেকে দেবে? ‘বাগান থেকে’; ৬. কোথায় দেবে? ‘বর্ধমানে’। ‘দেবে’ ক্রিয়ার সঙ্গে ‘তুমি’, ‘আম’, ‘লোক’, ‘তকী’, ‘বাগান’, ‘বর্ধমান’– এই ছয়টি পদের এক-এক রূপ অন্বয় বা সম্পর্ক রয়েছে। ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের পদের সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে যে ছয়টি রূপ পাওয়া যায় তার বিবেচনায় কারকের ছয়টি শ্রেণিবিভাগ হয়ে থাকে। যথা— – কর্তৃকারক, কর্মকারক, করণ কারক, সম্প্রদান কারক, অপাদান কারক ও অধিকরণ কারক।

 

কারকের শ্রেণিবিভাগ | কারক ও বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা

 

আরও দেখুন:

মন্তব্য করুন