এক টুকরো কাগজ -দি মিস্টিরিয়াস অ্যাফেয়ার্স অ্যাট স্টাইলস ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]

এক টুকরো কাগজ

Table of Contents

এক টুকরো কাগজ -দি মিস্টিরিয়াস অ্যাফেয়ার্স অ্যাট স্টাইলস ( এরকুল পোয়া’রো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]

এক টুকরো কাগজ -দি মিস্টিরিয়াস অ্যাফেয়ার্স অ্যাট স্টাইলস ( এরকুল পোয়া'রো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]
আগাথা ক্রিস্টি
পোয়া’রো এক টুকরো কাগজ আমার হাতে দিল। কাগজটাতে কিছু লেখা রয়েছে। আমি কৌতূহলবশতঃ পোয়া’রোকে জিজ্ঞাসা করলাম যে সে এটা কোথায় পেয়েছে। পোয়া’রো জানাল, ময়লা কাগজ রাখার ঝুড়িতে। লেখাটা কার হতে পারে আমাকে জিজ্ঞাসা করল সে। আমি দেখেই বললাম লেখাটা মিসেস ইঙ্গলথর্পের। কিন্তু লেখাটার অর্থ আমার বোধগম্য হল না। পোয়া’রো শান্ত স্বরে বলল লেখাটার অর্থ হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবে।

হঠাৎ একটা অদ্ভুত ধারণা আমার মনের মধ্যে উঁকি দিল, এমনও তো হতে পারে যে মিসেস ইঙ্গলথর্প মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন আর সেই অবস্থায় শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করে বসেছেন। কথাটা পোয়া’রোকে বলব কিনা ভাবতে ভাবতেই চমক ভাঙল ওরই ডাকে। সে কাপগুলো পরীক্ষা করে দেখার জন্য তার সাথে আমাকে যেতে বলল।

আমি বলে ফেললাম যে যখন জানাই গেছে কোকোতে বিষ ছিল তখন কফির কাপ পরীক্ষা আর কী হবে।

পোয়া’রো ঠাট্টার সুরে বলল তার নাকি কোকোর কথা মনেই ছিল না। পোয়া’রোর ওপর আমার রাগ হল, কারণে অকারণে ঠাট্টা করা ওর বিচিত্র খেয়াল। তবুও আমি শান্তভাবে বললাম মিসেস ইঙ্গলথর্প তো নিজের হাতে ওঁর কফির কাপ তুলে নিয়েই ওপরে গেছিলেন। সেই কাপ কি এখন আর আছে। শুধু হয়ত বেশি হলে ট্রেতে এক পুরিয়া স্ট্রিকনিন পাওয়া যেতে পারে।

পোয়া’রো যাবার জন্য আমার হাত ধরে টানল। ওর ওপর রাগ করে থাকার উপায় নেই। তাই হেসে ফেললাম।

দুজনে এসে বসবার ঘরে উপস্থিত হলাম। কফির কাপগুলো যেমন দেখেছিলাম সেভাবেই রয়েছে। কফির কাপগুলো দেখতে দেখতে পোয়া’রো বলল মিসেস ক্যাভেণ্ডিস তাহলে ট্রের কাছে দাঁড়িয়েছিলেন। এবং উনিই কাপে কফি ঢালছিলেন। জানলার সামনে মিসেস ক্যাভেণ্ডিস এগিয়ে গেলেন কফি নিয়ে, সেখানে সিনথিয়া আর আমি বসেছিলাম–পোয়া’রো এই কথাগুলো বলে যেতে লাগল।

যেখানে আমরা বসেছিলাম সেখানে তিনটে কাপ রয়েছে আর তাপচুল্লীর ওপরের তাকে একটা কাপ রয়েছে। পোয়া’রো জানতে চাইল তাকে ওপরের কাপটা কার। আমি বললাম ওটা লরেন্সের কাপ। আর ঐ তিনটে কাপ হল আমার সিনথিয়ার ও মিসেস ক্যাভেণ্ডিসের।

ট্রের ওপর যেকাপটা রয়েছে, পোয়া’রো জানতে চাইল সেটা কার। আমি বললাম ওটা জনের কাপ।

পোয়া’রো হিসাব করে বলল তাহলে মোট পাঁচটা কাপ। এবার সে মিঃ ইঙ্গলথর্পের কাপটা কোথায় জিজ্ঞাসা করল। আমি জানালাম মিঃ ইঙ্গলথর্প কফি খান না।

সুতরাং সব কটা কাপেরই হিসাব পাওয়া গেল।

এবার পোয়া’রো প্রত্যেকটি কাপের তলানি কফি আলাদা আলাদা টেস্ট টিউবে রেখে মুখগুলো বন্ধ করে দিল। অবশ্য প্রত্যেক কাপের কফিই জিভে ঠেকালো। আমি এক দৃষ্টিতে ওর কাণ্ডকারখানা দেখছিলাম। লক্ষ্য করলাম ওর মুখে নানা ভাবের খেলা চলছে। কখনও একটু অবাক হল পোয়া’রো, কখনও বা বেশ খুশী খুশী ভাব ফুটে উঠল ওর মুখে।

জন এসে জানাল চায়ের ব্যবস্থা হয়ে গেছে, আমাদের প্রাতঃরাশের আমন্ত্রণ জানাল সে। পোয়া’রো আপত্তি করল না।

আমি জনকে লক্ষ্য করলাম, মনে হল গত রাতের শোকের ধাক্কাটাও সামলে নিয়েছে, এখানেই লরেন্সের সঙ্গে ওর পার্থক্য, জন চিরকালই কম চিন্তাভাবনা করে। সকাল থেকেই সে দারুণ ব্যস্ততার মধ্যে কাটিয়েছে–নানা জায়গায় টেলিগ্রাম পাঠানো, খবরের কাগজে খবর পাঠানো এমনকি ইভিলিন হাওয়ার্ডকেও খবর পাঠাতে ভোলেনি সে।

জন বলল মিঃ ইঙ্গলথর্প যে বাড়ি ফিরে এসেছেন সে খবর কি সে বলেছে। পোয়া’রো মাথা নেড়ে সায় দিল।

জন বলতে লাগল যে তারা বেশ অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে পড়েছে। একজন খুনীর সঙ্গে একসঙ্গে বসে কিভাবে খাবে তা সে ভেবেও পাচ্ছে না।

পোয়া’রো ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল। তারপর জানতে চাইল মিঃ ইঙ্গলথর্প গত রাত্রে না ফেরার কারণ কিছু বলেছেন কিনা। জন জানাল ল্যাচকিটা নিতে ভুলে গেছিলেন বলে তিনি ফিরতে পারেননি।

পোয়া’রো জিজ্ঞাসা করল জনের কি মনে হয়, মিঃ ইঙ্গলথর্প ল্যাচকিটা সত্যিই নিতে ভুলে গেছিলেন। জন জানাল সে ঠিক বলতে পারবে না, কারণ ওটা দেখার কথা তার মনেই পড়েনি। সে বলল ল্যাচকিটা হলঘরের দেরাজের মধ্যেই রাখা থাকে। সে এখনই গিয়ে দেখাবে ওটা আছে কিনা।

পোয়া’রো তাকে ব্যস্ত হতে নিষেধ করল। মৃদু হেসে বলল মিঃ ইঙ্গলথর্প যদি ল্যাচকিটা নিয়ে গিয়ে থাকেন তাহলে সেটাকে আবার ঠিক জায়গায় রাখারও যথেষ্ট সময় পেয়েছেন।

জন জানতে চাইল তাহলে এ ব্যাপারে পোয়া’রোর অভিমত কি। পোয়া’রো বলল সে কিছুই মনে করছে না। তবে আজ সকালে কেউ যদি ঐ দেরাজের চাবিটা দেখে থাকে তাহলে এটা ওর পক্ষে ভালো হতে পারে।

জন ব্যাপারটা বুঝতে না পেরে একটু অবাক হয়ে তাকাল। পোয়া’রো তাকে চিন্তা করতে নিষেধ করল।

যাই হোক সকলেই খাওয়ার ঘরে এসে হাজির হলাম। ঐ দুর্ঘটনার পর যথারীতি বাড়ির সকলেরই মুখ থম থম করছে।

মেরী ক্যাভেণ্ডিস টেবিলের ধারে হাত দুটো ঝুলিয়ে বসেছিলেন, মুখে কোনো কথা নেই, যেন একেবারে প্রতিমা।

সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখলাম ওকে বেশ অবসাদগ্রস্ত বলে মনে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ওকে জিজ্ঞাসাই করে ফেললাম ও কি অসুস্থ বোধ করছে। সিনথিয়া জানাল তার ভীষণ মাথা ধরেছে।

পোয়া’রো তাড়াতাড়ি আর এক কাপ কফি নিয়ে সিনথিয়ার সামনে ধরে বলল, মাথা ধরার এমন সুন্দর ওষুধ আর নেই। পোয়া’রো কাপে চিনি দিতে যেতেই সিনথিয়া বলে উঠল সে কফিতে চিনি খায় না।

কথাটা শুনে পোয়া’রোকে বেশ চিন্তিত দেখাল। ওর চোখ দুটো চাপা উত্তেজনায় জ্বলজ্বল করছে।

এমন সময় ঘরে ঢুকলো ডরকাস। জনের দিকে তাকিয়ে বলল মিঃ ওয়েলস তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন, নামটা শুনেই মনে পড়ল ভদ্রলোক হলেন সেই আইনজ্ঞ যাঁকে মিসেস ইঙ্গলথর্প গতরাত্রে চিঠি লিখেছিলেন।

ডরকাসকে জন তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়িয়ে বলল ওঁকে তার পড়বার ঘরে নিয়ে যেতে।

ডরকাস চলে যেতেই জন আমাদের দিকে তাকিয়ে বলল মিঃ ওয়েলস তার মায়ের আইনজ্ঞ। পোয়া’রোকে সে তার সঙ্গে যাবার জন্য অনুরোধ করল।

সকলে একসাথে এগিয়ে যেতে যেতে পোয়া’রোর কানে কানে বললাম যে তাহলে এবার একটা তদন্ত হচ্ছে।

পোয়া’রো অন্যমনস্ক ভাবে মাথা নাড়ল। বুঝতে পারলাম কিছু একটা হয়েছে যার জন্য পোয়া’রো বেশ চিন্তিত। আমি তার চিন্তার কারণটা জানতে চাইলাম। পোয়া’রো বলল সিনথিয়া কফিতে চিনি খান না এটাই তার চিন্তার কারণ। আমি জিজ্ঞাসা করলাম সে কি আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছে।

পোয়া’রো জানাল ব্যাপারটা ঠাট্টার নয়। তার বারবার মনে হচ্ছে কফির কাপগুলো পরীক্ষা করা দরকার। কিন্তু তার পরক্ষণেই পোয়া’রো একদম চুপ করে গেল।

জনের সঙ্গে আমরা পড়ার ঘরে ঢুকে পড়লাম, জন দরজাটা বন্ধ করে দিল।

মিঃ ওয়েলস মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোক বেশ হাসিখুশি। দেখলেই বোঝা যায় উনি আইন ব্যবসায়ী।

জন তাকে বলল যে তিনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, এজন্য কোনো তদন্তের দরকার হয়ত হবে না। মিঃ ওয়েলস মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন বাড়ির লোকেদের অসুবিধা হলেও কিছু করার নেই কারণ এক্ষেত্রে ডাক্তারী সার্টিফিকেট না থাকায় এছাড়া কোনো উপায় নেই, তদন্ত একটা করতেই হবে।

জন গম্ভীরভাবে জানতে চাইল তাদের সকলেই কি এ ব্যাপারে সাক্ষী দিতে হবে। মিঃ ওয়েলস জানালেন জনকে এবং মিঃ ইঙ্গলথর্পপকে সাক্ষী দিতে হবে। আর অন্যরা নিয়মরক্ষার জন্য যাবে।

জনের মুখ দেখে মনে হল তার মুখে একটা নিশ্চিত ভাব ফুটে উঠেছে।

মি ওয়েলেস বললেন জনদের যদি কোনো অসুবিধা না থাকে তাহলে শুক্রবারই তদন্ত করা যেতে পারে। আর ময়না তদন্ত সেদিন রাতেই হবে কিনা জিজ্ঞাসা করলেন।

জন মাথা নেড়ে সায় জানাল।

এতক্ষণ পরে পোয়া’রো মুখ খুলল। সে মিঃ ওয়েলসকে জিজ্ঞাসা করল তিনি এই রহস্য সমাধানের ব্যাপারে কোনো সাহায্য করতে পারেন কিনা, মিঃ ওয়েলস অবাক হলেন।

পোয়া’রো মিঃ ওয়েলসকে বললেন তিনি তো মিসেস ইঙ্গলথর্পের চিঠি পেয়েই এখানে এসেছেন, সুতরাং তিনি কোনো সূত্র জানেন কিনা, সেই কথাই পোয়া’রো জানতে চাইছেন।

মিঃ ওয়েলস জানালেন তিনি সেদিন সকালেই চিঠি পেয়েছেন। চিঠিতে কোনো দরকারী কথা ছিল না, শুধু লেখা ছিল মিসেস ইঙ্গলথর্প একটা বিশেষ জরুরী ব্যাপারে তার পরামর্শ চান।

পোয়া’রো সেই জরুরী ব্যাপারটা জানতে চাইল। মিঃ ওয়েলস বললেন সে ব্যাপারে চিঠিতে কিছু লেখা ছিল না।

জন বলল ব্যাপারটা অত্যন্ত দুঃখজনক, পোয়া’রো গম্ভীরভাবে মাথা নাড়ল।

 

এক টুকরো কাগজ -দি মিস্টিরিয়াস অ্যাফেয়ার্স অ্যাট স্টাইলস ( এরকুল পোয়া'রো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]
আগাথা ক্রিস্টি

কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে পোয়া’রো মিঃ ওয়েলসেক বলল যদি তার ব্যবসায়ের নীতিবিরুদ্ধ না হয় তাহলে তার একটা জিজ্ঞাসা ছিল–মিসেস ইঙ্গলথর্পের মৃত্যুতে তার সম্পত্তির মালিকানা কার হাতে বর্তাবে।

পোয়া’রোর প্রশ্ন শুনে মিঃ ওয়েলস একটা ইতস্ততঃ করলেন, তারপর জনের দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন একথা বললে জনের কোনো আপত্তি আছে কিনা। জন মাথা নেড়ে জানাল তার কোনো আপত্তি নেই।

মিঃ ওয়েলস বলতে শুরু করলেন। মিসেস ইঙ্গলথর্পের গত আগস্ট মাসের শেষ উইল অনুসারে, পরিচারিকাকে কিছু সামান্য অর্থদান করার পর বাকি সবই তার সৎ ছেলে জন ক্যাভেণ্ডিসের হবে।

পোয়া’রো বলল এই উইলটা করে মিসেস ইঙ্গলথর্প তো লরেন্সের উপর অবিচার করলেন। মিঃ ওয়েলস জানালেন মিসেস ইঙ্গলথর্প জানতেন যে একমাত্র জনই স্টাইলসের সম্পত্তি রক্ষা করতে পারবে, সুতরাং তিনি যথার্থ উইলই করেছেন।

পোয়া’রো চিন্তিত মুখে মাথা নেড়ে বলল, ইংল্যান্ডের আইন অনুসারে মিসেস ইঙ্গলথর্পের পুনর্বিবাহের ফলে তার আগের উইল এমনিই বাতিল হয়ে যাবে।

মিঃ ওয়েলস মাথা নেড়ে সায় দিলেন, বললেন আগের উইলের কোনো মূল্যই এখন আর নেই। পোয়া’রো জিজ্ঞাসা করল মিসেস ইঙ্গলথর্প কি এ ব্যাপারটা সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল ছিলেন।

জন বলে উঠল মিসেস ইঙ্গলথর্প জানতেন যে পুনর্বিবাহের ফলে আগের উইল বাতিল হয়ে যায়। এই ব্যাপারেই গতকালই তারা আলোচনা করেছিল।

মিঃ ওয়েলস বলেছিলেন মিসেস ইঙ্গলথর্প তার শেষ উইলে জনকে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী করেছেন। সেজন্য পোয়া’রো জানতে চাইলেন মিসেস ইঙ্গলথর্প কি আরো উইল করেছিলেন।

মিঃ ওয়েলস জানালেন, মিসেস ইঙ্গলথর্প প্রত্যেক বছরই একটা করে নতুন উইল করতেন এবং যাকে যখনই তাঁর ভালো লাগত তাকেই তখন উইল করে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী করে বসতেন।

এবার জন মিঃ ওয়েলসের সঙ্গে মিঃ ইঙ্গলথর্পের কাগজপত্র দেখা যায় কিনা এ ব্যাপারে আলোচনা করতে লাগল।

একটু পরে জন পোয়া’রোর কাছে এগিয়ে এল, জিজ্ঞাসা করল আমরা তার সঙ্গে যাব কিনা, তার মার কাগজপত্রগুলো দেখার জন্য। ওগুলো মিঃ ইঙ্গলথর্প তার হাতে ছেড়ে দিয়েছেন।

জন আরো বলল, ছোট ঘরটা দেখে তারপরে তার মার ঘরে যাবে। মিসেস ইঙ্গলথর্পের গোলাপী নথিপত্রের ব্যাগটা ভাল করে দেখতে হবে বলে সে জানাল, কারণ তার মা সবসময় দরকারী কাগজপত্র ঐ ব্যাগে রাখতেন।

মিঃ ওয়েলস হাল্কাভাবে বললেন ব্যাগের মধ্যে একটা নতুন উইল থাকতেও পারে।

পোয়া’রো হঠাৎ বলে উঠল একটা নতুন উইল ব্যাগে আছে। আমরা সবাই চমকে উঠলাম। পোয়া’রো তাড়াতাড়ি বলল একটা উইল ছিল বলা যেতে পারে। জন জিজ্ঞাসা করল ছিল মানে কি, এখন তাহলে সেটা কোথায় গেল। পোয়া’রো বলল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, মিঃ ওয়েলস বললে একথা পোয়া’রো কি করে বলছেন।

পোয়া’রো তার পকেট থেকে মিসেস ইঙ্গলথর্পের ঘরের তাপচুল্লীর মধ্যে থেকে পাওয়া সেই আধপোড়া কাগজের টুকরোটটা তুলে ধরল, সামান্য কথায় ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিল।

মিঃ ওয়েলস বললেন এটা তো পুরানো উইলও হতে পারে। পোয়ারো বলল সে এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে গতকাল বিকালেই এই উইলটা লেখা হয়েছিল।

জন ও আইনজ্ঞ ভদ্রলোক দুজনেই একসঙ্গে অসম্ভব বলে চিৎকার করে উঠল।

পোয়ারো জনের দিকে তাকিয়ে বলল সে যদি তার মালীকে ডেকে পাঠায় তাহলে এই মুহূর্তে ব্যাপারটির সত্যতা প্রমাণিত হয়ে যাবে।

জন ঘণ্টা বাজালো, ডরকাস সাড়া দিতেই জন তাকে মালী ম্যানিংকে ডেকে দিতে বলল। ডরকাস চলে যেতেই আমরা চুপচাপ বসে রইলাম। পোয়ারোকে বেশ উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। সে নিজের মনে একটা বইয়ের তাকের ধুলো ঝাড়তে লাগল।

একটু পরেই ভারী জুতোর শব্দ শোনা গেল দরজার বাইরে। জন ম্যানিংকে ভেতরে ডাকল।

ম্যানিং ধীরে ধীরে ঘরের মধ্যে এসে দাঁড়াল। ওর পিঠটা একটু যেন ঝুঁকে পড়েছে তবে দেখে মনে হয় তেমন কিছু বয়স হয়নি। ওর চোখ দুটো বেশ বুদ্ধিদীপ্ত বলে মনে হল।

জন ম্যানিংকে বলল যে পোয়ারো তাকে কিছু প্রশ্ন করবেন, সে যেন সেগুলির ঠিকমত উত্তর দেয়। ম্যানিং মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।

পোয়ারো পায়ে পায়ে ম্যানিং-এর সামনে এগিয়ে গেল। সে প্রশ্ন করল গতকাল বিকালে বাড়ির দক্ষিণ দিকের বাগানে ফুলগাছগুলো ম্যানিং বসাচ্ছিল কিনা।

ম্যানিং জানাল সে আর উইলিয়াম দুজনে মিলে করছিল।

পোয়ারো এবার জিজ্ঞাসা করল, মিসেস ইঙ্গলথর্প কি তখনই তাদের জানলায় এসে ডাকেন, ম্যানিং মাথা নেড়ে সায় জানাল।

এরপর কি হয়েছিল পোয়ারো জানতে চাইল। ম্যানিং বলল মিসেস ইঙ্গলথর্প উইলিয়ামকে সাইকেল করে গ্রাম থেকে একটা উইলের কাগজ না কি যেন আনতে বলেছিলেন। উইলিয়াম ওটা নিয়ে ফিরে আসার পর তারা আবার গাছ লাগাতে থাকে।

পোয়ারো প্রশ্ন করল তারপর মিসেস মিসেস ইঙ্গলথর্প আর তাদের ডেকেছেন কিনা। ম্যানিং বলল যে তিনি তাদের ডেকে একটা কাগজে সই করতে বলেছিলেন। এবং তারা দুজনে মিসেস ইঙ্গলথর্পের সইয়ের নিচে সই করেছিল।

এবার পোয়ারো কড়া সুরে জিজ্ঞাসা করল কাগজটাতে কি লেখা ছিল তা কি সে দেখেছে। ম্যানিং জানাল লেখাটার ওপর একটা ব্লটিং চাপা দেওয়া ছিল।

পোয়ারো জানতে চাইল ম্যানিং কি দেখেছে এরপর মিসেস ইঙ্গলথর্প ঐ কাগজটা নিয়ে কি করেছিলেন? ম্যানিং বলল মিসেস ইঙ্গলথর্প কাগজটা একটা খামে ভরে গোলাপী একটা ব্যাগের মধ্যে রেখেছিলেন, যেটা ঐ ডেস্কের ওপর ছিল।

পোয়ারো প্রশ্ন করল মিসেস ইঙ্গলথর্প প্রথমে কটার সময় তাদের ডেকেছিলেন। ম্যানিং জানাল প্রায় বিকাল চারটের সময়। পোয়ারো তাকে বলল সে এবার চলে যেতে পারে। ম্যানিং মাথায় হাত ঠেকিয়ে ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

 

এক টুকরো কাগজ -দি মিস্টিরিয়াস অ্যাফেয়ার্স অ্যাট স্টাইলস ( এরকুল পোয়া'রো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]
আগাথা ক্রিস্টি

আমরা পরস্পরের মুখের দিকে তাকালাম। জন বলে উঠল এ এক অদ্ভুত সমাপতন। মিঃ ওয়েলস জনকে জিজ্ঞাসা করল সে কেন এরকম বলছে। জন বলল এছাড়া আর কিই বা বলা যায়, কারণ মারা যাওয়ার দিনই কেন মিসেস ইঙ্গলথর্প উইলটা করলেন।

মিঃ ওয়েলস এবার জিজ্ঞাসা করলেন গতকাল বিকালে মিসেস ইঙ্গলথর্পের সঙ্গে কার ঝগড়া হয়েছিল। জন কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠল মিঃ ওয়েলস কি জানতে চাইছেন। জনের মুখটা খুব ফ্যাকাসে দেখাল।

মিঃ ওয়েলস বলতে লাগলেন যে ঐ ঝগড়ার পরেই মিসেস ইঙ্গলথর্প খুব তাড়াতাড়ি একটা নতুন উইল করেছিলেন। যদিও সেই উইলে কি লেখা ছিল তা আর কোনোদিনই জানতে পারা যাবে না।

জন মিঃ ওয়েলসের কথার কোনো উত্তর দিল না। সে পোয়ারোকে বলতে লাগল যে সে তার কাছে কৃতজ্ঞ কারণ পোয়ারো না বললে ঐ দ্বিতীয় উইলটার কথা অজানা থেকে যেত। পোয়ারো কিভাবে ঐ উইলটা সম্বন্ধে সন্দেহ করল জন সেকথা জানতে চাইল।

মৃদু হেসে পোয়ারো বলল। একটা পুরনো খামের অংশ আর নতুন বসানো ফুলগাছ দেখে তার মনে সন্দেহ হয়।

জনের বোধ হয় আরও কিছু জানার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই একটা মোটরগাড়ির শব্দ শুনে আমরা জানলার দিকে তাকালাম। দেখলাম গাড়ি থেকে মিস ইভি হাওয়ার্ড নামছেন।

জন একপ্রকার ছুটেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। পোয়ারো হতচকিত হয়ে আমার দিকে জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকাল। আমি বললাম মিস হাওয়ার্ড এসেছেন, ইনি হলেন এমন একজন যার কিছু বুদ্ধি বিবেচনা আছে, এবার একটু নিশ্চিত হওয়া যাবে।

জন চলে যাওয়ার পর আমারও মনটা ইভির সঙ্গে দেখা করার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠল, তাই আমিও হলঘরে গিয়ে উপস্থিত হলাম।

মিস হাওয়ার্ডের সঙ্গে দেখা হতেই একটা চাপা অপরাধবোধ আমার মনকে নাড়া দিল। দিন কয়েক আগেই তিনি আমাকে সাবধানী বাণী শুনিয়েছিলেন। কিন্তু দুভার্গ্যবশতঃ সেই কথাগুলোকে তখন অতটা গুরুত্ব দিইনি। আর আজ সেই সাবধান বাণী বাস্তব সত্য হয়ে দেখা দিয়েছে। নিজের মনেই বেশ লজ্জা বোধ করলাম। মনে হল মিস ইভি স্টাইলসে থাকলে আজ হয়তো ঐ চরম দুর্ঘটনাটা এড়ানো যেত।

কিন্তু উনি যেই মাত্র এসে আমার হাত দুটো চেপে ধরলেন আমার মনটা বেশ হাল্কা হয়ে গেল। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম সেখানে কোনো ভৎর্সনার চিহ্ন নেই বরং চরম বেদনা ফুটে রয়েছে। তাকে দেখলেই বোঝা যায়, তিনি খুব কাঁদছিলেন। তিনি জানলেন তার পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি যত শীঘ্র সম্ভব গাড়ি নিয়ে রওনা দিয়েছেন।

জন পোয়ারোর সঙ্গে ইভিকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললো যে এই দুর্ঘটনার ব্যাপারে পোয়ারো তাদের সাহায্য করছেন।

জন জানাল পোয়ারো তদন্ত করছেন। ইভি বলে উঠল যে এতে তদন্তের কিছু নেই। সে জানতে চাইল পোয়ারো কি ব্যাপারে সাহায্য করছেন?

জন অবাক হয়ে জানতে চাইল কাকে জেলে নিয়ে যাবে। ইভি বিরক্ত হল জন তার কথা বুঝতে পারেনি বলে। সে বলল মিঃ ইঙ্গলথর্পের কথা ছাড়া আর কার কথা সে বলবে।

জন ধীরে ধীরে ইভিকে আশ্বস্ত করার জন্য বলল সে যেন চিন্তা করে কথাবার্তা বলে। লরেন্স যে এটাকে হার্টফেলের ঘটনা বলে মনে করে সেকথাও জন জানাল।

ইভি চিৎকার করে বলল লরেন্স একটা মূর্খ তাই সে হার্টফেলের কথা বলেছে। তার দৃঢ় বিশ্বাস, আলফ্রেড ইঙ্গলথর্প মিসেস এমিলিকে খুন করেছে।

জন তাকে অত চেঁচামেচি করতে বারণ করল। তাকে শান্ত হয়ে চুপচাপ বসতে বলল এবং তদন্তটার জন্য যে অপেক্ষা করা উচিত সে কথাও বলল।

মিস হাওয়ার্ড তবুও চুপ করলেন না, বলতে লাগলেন সকলের মতিভ্রংশ হয়েছে বলে সবাই তদন্তের জন্য অপেক্ষা করে আছে আর এই ইত্যবসরে মিঃ ইঙ্গলথর্প পালিয়ে যাবেন।

জন মিস হাওয়ার্ডের কথাগুলো শুনে অসহায়ভাবে এদিক ওদিক তাকাতে লাগল। মিস ইভি বলে যেতে লাগলেন মিঃ ইঙ্গলথর্পই তার স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছেন। সে বহুদিন আগে জানতো যে এরকম ধরনের একটা ঘটনা ঘটবে।

জন বলল এখন কিছুই করার নেই। কোনো প্রমাণ ছাড়া তাকে তো আর থানায় নিয়ে যাওয়া যেতে পারে না।

মিস হাওয়ার্ড তবু বললেন একটা কিছু করা উচিৎ। ওঁর কথাবার্তা শুনে মনে হলো এই বাড়িতে উনি আর মিঃ ইঙ্গলথর্প একসঙ্গে থাকা মানে লঙ্কাকাণ্ড হওয়া।

জন আর কথা না বাড়িয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

ইতিমধ্যে ডরকাস চা আনলো। পোয়ারো এতক্ষণ চুপচাপ জানলার পাশে দাঁড়িয়েছিল। এবার ধীরে ধীরে মিস হাওয়ার্ডের কাছে এসে বসল।

পোয়ারো গম্ভীর গলায় বলল সে কিছু কথা মিস হাওয়ার্ডকে জিজ্ঞাসা করতে চায়। মিস ইভি সম্মত হলেন। পোয়ারো বলল সে তার সাহায্য চায়। ইভি বললেন মিঃ ইঙ্গলথর্পপকে ফাঁসিতে ঝোলানোর জন্য সব সাহায্য করতে তিনি রাজী।

পোয়ারো বলল সেও চায় অপরাধীকে ফাঁসিতে ঝোলাতে।

ইভি বিস্ময়ের সুরে বললেন অপরাধী মানে মিঃ ইঙ্গলথর্প তো। পোয়ারো বলল যে কেউ অপরাধী হতে পারে।

মিস হাওয়ার্ড বলে উঠলেন অন্য কেউ অপরাধী হতে পারে না। ঐ লোকটা এখানে আসার পরই এমিলি খুন হয়েছে, আগে তো হয়নি। সে একথাও বলল যে বাড়ির যত লোক আছে তারাও সব হাঙর কিন্তু তাদের লক্ষ্য শুধু এমিলির টাকার ওপর, সেক্ষেত্রে প্রাণের ভয়টা ছিল না। কিন্তু মিঃ ইঙ্গলথর্প এখানে আসার মাস দুয়েকের মধ্যে এই অঘটন ঘটল।

পোয়ারো আন্তরিকতার সঙ্গে বলল যদি মিঃ ইঙ্গলথর্প প্রকৃত অপরাধী হন তাহলে তিনি কখনই নিস্তার পাবেন না, ফাঁসিকাঠে তাকে ঝুলতেই হবে। তাই পোয়ারা চায় মিস হাওয়ার্ড যেন তার ওপর বিশ্বাস রাখেন।

মিস হাওয়ার্ড মাথা নাড়ালেন। তিনি বললেন মিসেস ইঙ্গলথর্পকে তিনি সত্যি খুব ভালোবাসতেন যদিও এমিলি একটু স্বার্থপর ছিলেন। কাউকে কিছু দিলে প্রতিদানে কিছু আশাও করতেন। এবং সবসময়ই সকলকে বুঝিয়ে দিতে চাইতেন যে ওঁর কাছে সবাই ঋণী। এজন্যই কেউ তাকে ভালোবাসতে পারল না। মিস ইভি বলে যেতে লাগলেন তিনি তার ন্যায্য পাওনা থেকে এতটুকুও বেশি নেননি এমিলির কাছ থেকে। এতে অবশ্য এমিলি মাঝে মাঝে একটু মনঃক্ষুগ্নও হয়েছেন কিন্তু ইভি তার নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখেছেন। সেজন্য তিনিই বোধ হয় একমাত্র মিসেস ইঙ্গলথর্পপকে ভালোবাসতে পেরেছেন।

পোয়ারো মাথা নেড়ে সায় দিল।

এই সময় জন এসে মিসেস ইঙ্গলথর্পের ঘরে যাওয়ার জন্য আমাদের ডাকলো। ছোট ঘরটা ওদের ততক্ষণে পরীক্ষা করা হয়ে গেছে। বন্ধ দরজার সামনে আসতেই পোয়ারোকে জিজ্ঞাসা করলাম তার কাছে চাবিগুলো আছে কিনা, পোয়ারো চাবিগুলো বের করে দিল।

 

এক টুকরো কাগজ -দি মিস্টিরিয়াস অ্যাফেয়ার্স অ্যাট স্টাইলস ( এরকুল পোয়া'রো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]
আগাথা ক্রিস্টি

জন দরজা খুলতেই মিঃ ওয়েলস ডেস্কের কাছে এগিয়ে গেলেন, তার পেছনে পেছনে জন। সে বলল তার কাগজপত্রগুলো নথিপত্রের বাক্সেই থাকতো।

পোয়ারো এবার এগিয়ে এসে চাবি দিয়ে বলল সাবধানতার জন্য সে ওটাতে চাবি লাগিয়ে রেখেছিল। জন বলল যে বাক্সটা খোলাই আছে, তাতে কোনো চাবি দেওয়া নেই।

পোয়ারো অসম্ভব বলে চিৎকার করে উঠল। সে হতভম্ব হয়ে গেল, বলল নিজের হাতে সে চাবি লাগিয়েছিল এবং সেই চাবি তার পকেটে রয়েছে। সে জোর দিয়ে বলল যে এই তালাটা কেউ জোর দিয়ে খুলেছে।

আমরা সকলেই প্রায় একসঙ্গে বলে উঠলাম যে কে এটা খুলতে পারে আর কিভাবেই বা খুলল যখন দরজাটাও বন্ধ ছিল। আমরা পরস্পরের দিকে শুধু বোকার মত তাকালাম।

পোয়ারো এগিয়ে গিয়ে তাপচুল্লীর তাকের ওপরের সব জিনিষ নাড়াচাড়া করতে লাগল। বাইরে থেকে দেখে ওকে খুব শান্ত বলে মনে হলেও ওর মনের মধ্যে যে ঝড় বইছে তা বুঝতে পারলাম, দেখলাম ওর হাত দুটো থরথরিয়ে কাঁপছে।

একটু ধাতস্থ হয়ে পোয়ারো বলল যে এই নথিপত্রের বাক্সে এমন কোনো সূত্র ছিল যেটা হত্যাকারীর পক্ষে মারাত্মক, তাই কারও নজরে পড়ার আগেই যে ওটা সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছে। আর এই কারণেই সে এরকম একটা বিপজ্জনক ঝুঁকি নিয়েছে।

পোয়ারো হাত-পা ছুঁড়ে নিজেকে দোষারোপ করতে লাগল। বলতে লাগল সে মহা মূর্খ তাই বাক্সটা ঘরে ফেলে গেল, নিজে সঙ্গে করে নিয়ে গেলে সূত্রটা হাত ছাড়া হত না। হয়ত এতক্ষণে সেই সূত্রটা নষ্ট করাও হয়ে গেছে কিন্তু যদি নষ্ট করা না হয়ে থাকে তাহলে খুঁজে দেখা উচিৎ।

পোয়ারো একপ্রকার উন্মাদের মতই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল। কয়েক মুহূর্ত আমরা হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। তারপর বিস্ময়ের ঘোর কেটে যেতেই আমিও ওর পেছনে ছুটলাম। সিঁড়ির মাথায় পৌঁছে চতুর্দিকে তাকালাম, কিন্তু কোথাও পোয়ারোর কোনো চিহ্ন দেখতে পেলাম না।

সিঁড়ির বাঁকের মুখে মেরী ক্যাভেণ্ডিসের সঙ্গে দেখা হল। তিনি পোয়ারোকে উদ্ভ্রান্তের মত ছুটে যেতে দেখেছেন বলে আমার কাছে জানতে চাইলেন যে পোয়ারোর কি হয়েছে।

আমি বললাম যে একটা ব্যাপারে পোয়ারো একটু উত্তেজিত হয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে আর সাহস হল না কারণ পোয়ারো আবার কিভাবে ব্যাপারটাকে নেবে কে জানে।

আমার কথা শুনে মেরী ক্যাভেণ্ডিস মৃদু হাসলেন। তারপর পেছনে ফিরে সিঁড়ি বেয়ে উনি উঠে গেলেন।

একটু পরেই শুনতে পেলাম নিচে বেশ চেঁচামেচি চলছে। পোয়ারো বেশ উচ্চস্বরে চিৎকার করছে। মনে মনে ভেবে লজ্জা পেলাম যে পোয়ারোটার কোনো বুদ্ধি নেই। অন্যের বাড়িতে এসে কেউ এভাবে চিৎকার করে। তাড়াতাড়ি নিচে নেমে এসে পোয়ারোকে হাত ধরে একপাশে টেনে আনলাম। আমার দিকে তাকিয়ে পোয়ারো চুপ করে গেল।

পোয়ারোকে আমি মৃদু ভর্ৎসনা করলাম। পোয়ারো শান্ত কণ্ঠে জানাল সে খুবই লজ্জিত। তার এই শান্ত স্বর শুনে আমার কেমন যেন দুঃখ হল।

পোয়ারো এবার বলল যে তার কাজ আপাতত শেষ। সে এখন যেতে চায়। সে ছোট হাতব্যাগটা হাতে তুলে নিল। রাস্তা পর্যন্ত ওকে এগিয়ে দেবার জন্য আমি ওর সঙ্গ নিলাম।

ঘর থেকে বাইরে আসতেই সিনথিয়ার সঙ্গে আমাদের দেখা হয়ে গেল। পোয়ারো দাঁড়িয়ে পড়ে বলল তার একটা ছোট প্রশ্ন আছে। সিনথিয়া জানতে চাইল কি সেটা। পোয়ারো প্রশ্ন। করল সিনথিয়া কি কোনোদিন মিসেস ইঙ্গলথর্পের ওষুধ তৈরি করেছেন?

কথাটা শুনে সিনথিয়ার মুখ লাল হয়ে উঠল, ইতস্ততঃ করে জানাল যে সে কোনোদিন ওষুধ তৈরি করেনি। পোয়ারো এবার জিজ্ঞাসা করল যে সে শুধু পুরিয়া তৈরি করেছে কিনা।

সিনথিয়ার মুখ আরও রক্তিম হয়ে উঠল, বলল যে সে মাত্র একবার ঘুমের ওষুধ তৈরি করে দিয়েছিল।

কুড়িয়ে পাওয়া সেই নামবিহীন বাক্সটা পকেট থেকে বের করে পোয়ারো দেখাল এবং জানতে চাইল এটাই সেটা কিনা।

সিনথিয়া মাথা নেড়ে সায় দিল। পোয়ারো জিজ্ঞাসা করল এর মধ্যে সালফোনাল না ভেরোনাল ছিল? সিনথিয়া জানাল তাতে ব্রোমাইডের গুঁড়ো ছিল।

এবার পোয়ারো সিনথিয়াকে বিদায় জানাল।

বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে আড়চোখে একবার পোয়ারোর দিকে তাকালাম। দেখলাম তার চোখের মণি দুটো অদ্ভুত সবুজ হয়ে জ্বলছে, বুঝলাম চরম উত্তেজনায় ভুগছে সে।

বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ হাঁটার পর পোয়ারোই শেষ পর্যন্ত কথা বলল। সে জানাল মিঃ ওয়েলস একটা ব্যাপার আবিষ্কার করেছেন। আমি প্রশ্ন করলাম সে কি। পোয়ারো বলতে লাগল ছোট ঘরটার ডেস্কে রাখা মিসেস ইঙ্গলথর্পের উইল। ওই উইলে তিনি সম্পত্তিটা অ্যালফ্রেড ইঙ্গলথর্পপকে দিয়েছিলেন। উইলটা ওদের বিয়ের ঠিক আগের। ছাপানো ফর্মে লেখা উইল, সাক্ষী হিসাবে দুজন চাকর সই দিয়েছে। তবে কোথাও ডরকাসের সই নেই। ব্যাপারটা দেখে জন ও মিঃ ওয়েলস খুব অবাক হয়ে গেছে।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম মিঃ ইসলথর্প ঐ উইলের কথা জানতেন কিনা। পোয়ারো জানাল যে মিঃ ঈঙ্গলথর্প বলেছেন তিনি জানতেন না।

এরপর আমি পোয়ারোকে প্রশ্ন করলাম সে কিভাবে ছেঁড়া খাম দেখে বুঝল যে একটা উইল লেখা হয়েছে।

পোয়ারো হেসে বলল চিঠি লিখতে লিখতে প্রায়শই এরূপ হয় যে একটা বিশেষ কথার বানান মনে আসছে না। তখন সকলে কি করে একটা ছেঁড়া কাগজে ঐ বিশেষ বানানটা বারবার লিখে দেখতে চায় যে সেটা ঠিক হচ্ছে কিনা। এক্ষেত্রেও মিসেস ইঙ্গলথর্প ঠিক সেরকম করেছেন। ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে তিনি একটি বিশেষ শব্দের বানান নিয়ে চিন্তায় পড়েছিলেন। ঐ বিশেষ বানানটা সম্ভবত সম্পত্তির অধিকার সংক্রান্ত, মিসেস ইঙ্গলথর্প সেই রাতে নিশ্চয়ই সম্পত্তি কথাটা লিখতে চেয়েছিলেন।

পোয়ারো এই ব্যাপারটা সম্বন্ধে তখনই নিশ্চিন্ত হয়েছে যখন সে তাপচুল্লীর ছাইয়ের মধ্যে থেকে ওই ছেঁড়া কাগজের টুকরোটা খুঁজে পেল। ওটা দেখেই তার মনে উইলের কথাটা জেগেছিল। একমাত্র কোনো উইল লিখতে গেলেই ঐ কথাটার প্রয়োজন হয়।

পোয়ারো জানাল আরও একটা কারণে তার ধারণাটা নিশ্চিত হয়। ঐ ঘরটাতে সেদিন কোনো কারণে ঝাড়ু দেওয়া হয়নি। ডেস্কের কাছে কিছু শুকনো মাটির গুঁড়ো পড়ে রয়েছে। ওগুলো থেকে এই ধারণাটা হওয়াই স্বাভাবিক যে সেদিন বৃষ্টি বাদল হয়নি। বাগানেও নতুন ফুলগাছের চারা বসানো হয়েছে। তাই ধারণা করা সহজ যে বাগানের দুজন মালিই কোনো কারণে ঐ ঘরে ঢুকেছিল, ওদেরই জুতোর তলার মাটির গুঁড়ো ঘরে ছড়িয়েছে, ওদের দুজোড়া পায়ের ছাপও ঘরে স্পষ্ট হয়ে রয়েছে।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম মালী দুজন কেন ঘরে ঢুকলো। পোয়ারো বলল মিসেস ইঙ্গলথর্প যদি শুধু ওদের সঙ্গে কথা বলতে চাইতেন তাহলে ওদের ঘরে ঢোকার প্রয়োজন হত না, জানলার ধারে এসেই কথা বলতে পারতেন, তাই খুব সম্ভব ওরা দুজন মিসেস ইঙ্গলথর্পের লেখা কোনো উইলে সাক্ষী হিসাবে সই করার জন্য ঘরে এসেছিল।

 

এক টুকরো কাগজ -দি মিস্টিরিয়াস অ্যাফেয়ার্স অ্যাট স্টাইলস ( এরকুল পোয়া'রো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]
আগাথা ক্রিস্টি

এই পর্যন্ত বলে পোয়ারো থামল। আমি পোয়ারোর তারিফ না করে পারলাম না। পোয়ারো মৃদু হাসল।

এবার আমি আরেকটা প্রশ্ন করলাম যে সে কিভাবে জানল যে নথিবাক্সের চাবিটা হারিয়েছে।

পোয়ারো বলল সেটা সে জানত না, শুধুমাত্র আন্দাজে ঢিল ছুঁড়েছিল। চাবিটাতে এক টুকরো তার জড়ানো দেখে সন্দেহ হয়েছিল চাবিটা কোনো মরচে ধরা চাবির থোকায় আটকানো ছিল, খুলে পড়ে গেছে। চাবিটা যদি প্রথমে হারিয়ে গিয়ে আবার খুঁজে পাওয়া যেত তাহলে মিসেস ইঙ্গলথর্প নিঃসন্দেহে সেটা চাবির থোকায় আটকে নিতেন। কিন্তু তার চাবির থোকাতে নতুন চকচকে একটা চাবি দেখে বোঝা গেল যে সেটা ঐ চাবির অন্য জোড়াটা। সুতরাং অন্য কেউ প্রথম চাবিটা নথি বাক্সে লাগিয়েছে।

আমি বললাম কেউ বলতে তো মিঃ ইঙ্গলথর্পৰ্প। পোয়ারো আমার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল যে আমি ঐ লোকটার অপরাধ সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ কিনা।

আমি বললাম ঘটনাপ্রবাদ তো সেদিকেই ইঙ্গিত করছে।

পোয়ারো মাথা ঝাঁকিয়ে বলল মিঃ ইঙ্গলথর্পেরও বলার মত অনেক কথা আছে। আমি বললাম আমি তো একটার বেশি কারণ দেখতে পাচ্ছি না। পোয়ারো সেটা কি জানতে চাইল।

আমি বলতে লাগলাম সেই রাত্রে যে লোকটা ঘরে ঢুকছিল সে জানলা দিয়ে বা কোনো যাদুমন্ত্রে ঢোকেনি। সুতরাং মিসেস ইঙ্গলথর্পপই দরজা খুলে দিয়েছিলেন। নিঃসন্দেহে সেই লোকটি ওঁর স্বামী মিঃ ইঙ্গলথর্প কারণ নিজের স্বামীকে দরজা খুলে দিতে নিশ্চয়ই ওঁর আপত্তি থাকার কথা নয়।

পোয়ারো আমার সঙ্গে একমত হল না। সে বলল মিঃ ইঙ্গলথর্পপকে দরজা খুলে দিতে মিসেস ইঙ্গলথর্পের আপত্তি থাকার কথা। উনি ওঁর স্বামীর ঘরে ঢোকার দরজাটা সেদিন ভেতর থেকে বন্ধ করে রেখেছিলেন কারণ ঐ দিনই বিকালবেলায় ওদের মধ্যে খুব ঝগড়া হয়েছিল। সুতরাং মিসেস ইঙ্গলথর্প কখনই স্বামীকে দরজা খুলে দিতে পারেন না।

হাঁটতে হাঁটতে আমরা ততক্ষণে পোয়ারোর আস্তানা লিস্টওয়েড কুটিরে পৌঁছে গেছি। পোয়ারোর আহ্বানে ওর শোবার ঘরে গিয়ে বসলাম। পোয়ারো দুটো চেয়ার জানলার সামনে এনে রেখেছিল–সেখান থেকে গ্রামের রাস্তাটা বেশ পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছিল।

জানলার বাইরে নজর পড়তেই দেখলাম অদ্ভুত চেহারার একটা লোক খুব জোরে রাস্তা দিয়ে ছুটে আসছে। লোকটার মুখ দেখে মনে হল খুব ভয় পেয়েছে সে। পোয়ারোকে তাড়াতাড়ি ডেকে দেখালাম।

পোয়ারো জানলা দিয়ে দেখে বলল লোকটা হল মিঃ মেস, ওষুধের দোকানে কাজ করে।

লোকটা ততক্ষণে দরজায় দমাদম ধাক্কা মারতে শুরু করেছে। পোয়ারো দরজা খোলার জন্য নিচে ছুটলো। মিঃ মেসের গলা পেলাম, সে বলছে সারা গ্রামে মিসেস ইঙ্গলথর্পের মারা যাওয়ার খবরটা ছড়িয়ে পড়েছে। লোকে বলছে, ওঁকে নাকি বিষ খাওয়ানো হয়েছে। শেষের কথাটা বলার সময় গলাটা খাটো করল সে।

পোয়ারো অবশ্য স্বাভাবিক গলায় বললো সঠিক ব্যাপার অবশ্য ডাক্তারই একমাত্র বলতে পারবেন।

শেষ পর্যন্ত ছোকরাটা বিদায় নিতেই পোয়ারো দরজা বন্ধ করে দিল।

পোয়ারোর সঙ্গে চোখাচোখি হতেই সে বলল ছোকরাকে তদন্তের সময় সাক্ষী হিসেবে প্রয়োজন হবে।

পোয়ারোকে কিছু জিজ্ঞাসা করবো মনে করতেই বাধা দিল ও। সে জানাল তার মনটা এখন খুব বিক্ষিপ্ত হয়ে গেছে।

প্রায় দশ মিনিট চুপচাপ বসে রইল পোয়ারো। তার মুখের ওপর বিচিত্র ভাবের খেলা ফুটে উঠতে লাগল। শেষ পর্যন্ত একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল তার মুখ দিয়ে। তারপর বলল সে বড় ধাঁধায় পড়ে আছে। দুটো ব্যাপার নিয়ে সে খুব চিন্তিত।

আমি জানতে চাইলাম ব্যাপার দুটো কি। পোয়ারো জানাল একটা ব্যাপার হল গতকালের আবহাওয়াটা কেমন ছিল তা খুবই জরুরী ব্যাপার।

আমি বললাম গতকাল তো বেশ সুন্দর আবহাওয়া ছিল। পোয়ারো বলল গতকাল তাপমাত্রা প্রায় আশি ডিগ্রী উঠেছিল। এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে রহস্যের চাবিকাঠি।

দ্বিতীয় ব্যাপারটি হল মঁসিয়ে ইঙ্গলথর্পের পোশাকটি বড় অদ্ভুতএবং সেই সঙ্গে ওর কালো দাড়ি আর চশমাও খুব অদ্ভুত।

আমি বললাম যে তার হেঁয়ালি আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।

পোয়ারো বলল সে ঠাট্টাও করছে না, আর হেঁয়ালিও করছে না। তার কথা একেবারে সত্যি।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম যদি করোনারের জুরিরা আলফ্রেড ইঙ্গলথর্পকেই খুনী হিসাবে রায় দেয় তাহলে পোয়ারোর ধারণার কি গতি হবে।

পোয়ারো জানাল তাতেও তার মতের হেরফের হবে না।

পোয়ারোর জবাব শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। এই ছোটখাটো মানুষটাকে আমি অবাক চোখে দেখতে লাগলাম। পোয়ারোর মুখে একসঙ্গে বিরক্তি ও আনন্দের অভিব্যক্তি দেখতে পেলাম।

পোয়ারো আমার কাঁধে হাত রেখে ছলছল চোখে বলতে লাগল যে সে নিজের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যেভাবেই হোক মিসেস ইঙ্গলথর্পের খুনীকে সে খুঁজে বের করবেই এবং যথাযোগ্য শাস্তি দেয়ার কারণ মিসেস ইঙ্গলথর্প জীবনে কখনও কারও ভালোবাসা পাননি। কিন্তু তিনি বেলজিয়ানদের জন্য যে উপকার করেছেন সেই ঋণ পোয়ারোকে শোধ করতেই হবে।

পোয়ারো আরো বলল যে সে এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে তার একটা মুখের কথায় অ্যালফ্রেড গ্রেপ্তারীর হাত থেকে রেহাই পেতে পারে। তখন সেটা না করলে মিসেস ইঙ্গলথর্পপ কখনও তাকে ক্ষমা করবেন না।

এক টুকরো কাগজ -দি মিস্টিরিয়াস অ্যাফেয়ার্স অ্যাট স্টাইলস ( এরকুল পোয়া'রো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]
আগাথা ক্রিস্টি

আমাদের আরও পোষ্ট দেখুনঃ

Bangla Gurukul Logo এক টুকরো কাগজ -দি মিস্টিরিয়াস অ্যাফেয়ার্স অ্যাট স্টাইলস ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]

হোটেলের পথে চলতে চলতে -মার্ডার অন দ্য লিঙ্কস (১৯২৩) ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]

লন্ডন এক্সপ্রেস -মার্ডার অন দ্য লিঙ্কস (১৯২৩) ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]

তেল ইয়ারিমাহ -মার্ডার ইন মেসোপটেমিয়া ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]

দ্য ইনক্রেডিবল থেফট -মার্ডার ইন দ্য মিউস (১৯৩৭) ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]

আত্মহত্যা নাকি খুন -মার্ডার ইন মেসোপটেমিয়া ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]

কবি কাহিনী (১৮৭৮) | কাব্যগ্রন্থ | কবিতা সূচি | পর্যায় : সূচনা (১৮৭৮ – ১৮৮১) | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মন্তব্য করুন