আমার শৈশব রচনা । Essay on My Childhood । প্রতিবেদন রচনা

আমার শৈশব রচনা । Essay on My Childhood । প্রতিবেদন রচনা

cropped Bangla Gurukul Logo আমার শৈশব রচনা । Essay on My Childhood । প্রতিবেদন রচনা

আমার শৈশব রচনা

ভূমিকা :

মানবজীবনের সবচেয়ে আনন্দঘন সময় হলো শৈশব । এ সময়ে পৃথিবীর কঠিন বাস্তবতা জীবনের কাছে আসতে পারে না । চিন্তাকে করতে পারে না ঘোলাটে । চারপাশ ঘিরে থাকে আনন্দের ঘনঘটা । মা – বাবা , দাদা – দাদি , নানা – নানির আদরে আদরে জীবনটা থাকে আনন্দময় । বন্ধু – বান্ধব নিয়ে সে কি আনন্দেই না সময়গুলো কাটে । সে সময়ের অভাবটা বোধ হয় পরিণত বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হারানো শৈশবের স্মৃতিকে স্মরণ করে বেদনার সাথে বলেছেন—

“ দেখে শুনে মনে পড়ে সেই সন্ধ্যাবেলা
শৈশবের । কত গল্প , কত বাল্যখেলা ,
এক বিছানায় শুয়ে মোরা সঙ্গী তিন ;
সে কি আজিকার কথা , হলো কতদিন । ”

ক্রমে ক্রমে মানুষ শৈশব থেকে কৈশোর , কৈশোর থেকে যৌবন , যৌবন থেকে বার্ধক্যে প্রবেশ করে , কিন্তু শৈশবের ফেলে আসা স্মৃতিগুলোর কথা ভুলতে পারে না কোনো দিন।

আমার শৈশব :

আমার শৈশব কেটেছে গ্রামে । গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদী । বর্ষায় নদীটি যখন পানিতে ভরে যায় তখন এর রূপ যেন নতুন হয়ে ওঠে । জলস্রোতের কলকল সুর এবং সকাল – সন্ধ্যা পালতোলা নৌকার বহর দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যেত । আবার চৈত্র মাসে যখন পানি কমে যেত তখন নদীটি অন্য রূপ ধারণ করত ।

এ সময়ে মাছ ধরার ধুম পড়ে যেত । তখন আমি স্কুল পালিয়ে মাছ ধরার নেশায় মাতাল হয়ে উঠতাম । বন্ধুদের সঙ্গে জাল , পলো নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তাম নদীতে। মাছ ধরার আনন্দে খাওয়ার কথাও মনে থাকত না । এর আনন্দই আলাদা ।

নদীর দুই তীরের দৃশ্যও ছিল সাজানো । সাদা সাদা কাশফুলের দৃশ্য , সে কি অপূর্ব । মাঝে মাঝে আম , জাম, নারকেল , তাল , সুপারি গাছ । নদীটি এঁকেবেঁকে মিলিয়ে গেছে অনেক দূরে । এমন নদী দেখে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন—

“ আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে ।
পার হয়ে যায় গরু , পার হয় গাড়ি ,
দুই ধার উঁচু তার ঢালু তার পাড়ি ।
চিক্ চিক্ করে বালি , কোথা নাই কাদা ,
একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা । ”

আমার শৈশব রচনা । Essay on My Childhood
আমার শৈশব রচনা । Essay on My Childhood

শৈশবের পাঠশালা :

আমার শৈশবকালে পাঠশালা জীবনের স্মৃতি আজও জীবন্ত হয়ে আছে । আমাদের পাঠশালাটি ছিল ছোট্ট এক টিনের ছাউনি । ছিল না কোনো বৈদ্যুতিক আলো , বৈদ্যুতিক পাখা বা কোনো আধুনিকতার ছোঁয়া ।

সেই পুরোনো , আদিম শিক্ষায়তনে তবু বাঁধা পড়ে আছে আজও আমার এ হৃদয়টি । গ্রামের গেঁয়ো পরিমণ্ডলে প্রকৃতির বিস্তৃত অঙ্গনের এক কোণে বসে পণ্ডিত মহাশয়ের নিয়ন্ত্রণে যে ছটি বছর ফেলে এসেছি , তা যেন আজ হারানো মানিকের মতোই অমূল্য সম্পদ বলে মনে হচ্ছে । আবাল্যের জীবন নাটকের এমন সুমধুর স্মৃতির বন্ধনকে আমি কখনো ভুলতে পারব না ।

শৈশবের গ্রাম্যমেলা :

আজকের বর্ণাঢ্য জীবন চলার পথে অন্য কিছু না হলেও গ্রাম্যমেলার রোমাঞ্ঝকর ঘটনা আমাকে বার বার আলোড়িত করে খেলা , সার্কাস , বাঁদর নাচ সবই যেন আজকের সবকিছুকে ডিঙিয়ে এক মধুর অতীতের স্মৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় । একবার বাঁদর নাচ দেখতে গিয়ে বাবার কাছ থেকে দলছুট হওয়ার কারণে বকুনিও খেতে হয়েছিল । তবু খারাপ লাগে নি । হারানো স্মৃতির আকর্ষণ এমনিভাবে হৃদয়কে আলোড়িত করে , যেন ভাবাবেগে আপ্লুত হয় মন ।

আমার শৈশব রচনা । Essay on My Childhood
আমার শৈশব রচনা । Essay on My Childhood

শৈশবের নানা স্মৃতি :

আমাদের গ্রামের পূর্বদিকে আছে বিশাল – বিস্তৃত বন । অপেক্ষাকৃত নিচু অঞ্চল বর্ষার শুরুতেই প্লাবিত হয়ে যায় । মাঝখানে আছে বিল – হাওর । বর্ষার পানিতে অসংখ্য শাপলা গজিয়ে ওঠে এই হাওরে । ফোটে অসংখ্য ফুল । ফুলের সৌন্দর্যে অপরূপ রূপে সেজে ওঠে বন ।

একটু বাতাস ছুটলেই শাপলা পাতা ও ফুলের নাচানাচির দৃশ্য খুবই মনোরম দেখায় । দূর থেকে এসব দেখে আমার মন যখন আনচান করে উঠত তখন ডিঙি নৌকা নিয়ে বন্ধুরা মিলে ছুটে যেতাম বনে । শাপলা তুলতে তুলতে নৌকা ভরে যেত । একবার ধানক্ষেতে চোখে পড়ে কোড়াল পাখির বাসা । বাসায় ছিল ডিম । তখনও বাচ্চা ফোটে নি । বাচ্চা ফোটার আশায় ডিমগুলো নিয়ে আসি নি । দুদিন পর আবার দেখতে যাই । তখনও বাচ্চা ফোটে নি ।

এদিকে মায়ের সাথে মামার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে থাকতে হলো সাত দিন । ফিরে এসে বনে গিয়ে কোড়ালের বাসাটি পেলাম ঠিকই কিন্তু ডিমগুলো ছিল না । হয়তো অন্য কারও চোখ পড়েছিল , চুরি করে নিয়ে গেছে । কিংবা বাচ্চা ফুটিয়ে এর মধ্যে কোড়ালেরা তাদের সন্তানদের নিয়ে স্থান ত্যাগ করেছে ।

যা – হোক , শূন্য বাসা দেখে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম । সেদিনের সেই মনোবেদনার স্মৃতি আজও আমাকে নিয়ে যায় অতীতের দিনগুলোতে । এছাড়া ডাঙুলি খেলা , কানামাছি , এক্কা – দোক্কা , লুকোচুরি খেলা এসব স্মৃতির কথাও বারে বারে মনে পড়ে । মনে পড়ে ঝিরিঝিরি বাতাসে ঢেউ খেলানো বিলে শাপলা তোলার আনন্দের কথা ।

আমার শৈশব রচনা । Essay on My Childhood
আমার শৈশব রচনা । Essay on My Childhood

উপসংহার :

আমার শৈশবের জীবন – সুতোয় গ্রথিত আছে অসংখ্য স্মৃতি – সম্পর । সেসব স্মৃতি এখন আমার কাছে অমূল্য সম্পদ বলে মনে হয় । শত চেষ্টা করেও কোনো স্মৃতিকেই মন থেকে মুছে দিতে পারি না । আমি যতই ভুলে যেতে চাই , স্মৃতিগুলো যেন ক্রমশ আরও সজীব হয়ে ওঠে ।

আরও পড়ুনঃ

“আমার শৈশব রচনা । Essay on My Childhood । প্রতিবেদন রচনা”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন